মোহাম্মদ আলমাছ হোসেন আওয়াল বিশেষ প্রতিনিধি জামালপুর

জামালপুরের ইসলামপুর মলমগঞ্জ মডেল কলেজ প্রতিষ্ঠার ২৪ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো এমপিওভূক্ত হয়নি। দীর্ঘ ২৪ বছরেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
কলেজটি এমপিওভুক্তি হবে এ আশায় থাকতে থাকতে প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ, প্রভাষক মামুনুর রশীদ ও অফিস সহকারী হাসানুজ্জামান মৃত্যুবরণ করেছেন ।
জানা যায়, ২০০১ সালে নদী ভাঙ্গন কবলিত যমুনার তীরবর্তী কুলকান্দী ও পাথর্শী পাশাপাশি দুই ইউনিয়নের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার জন্য মলমগঞ্জ কলেজটি প্রতিষ্ঠা করা হয়।
কলেজ অফিস সূত্র জানাগেছে, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩৫১ ছাত্রছাত্রী লেখাপড়া করছে। ২০২২ সালে ৬০ জন ছাত্র/ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৬ জন জিপিএ ৫ পেয়ে শতভাগ পাস করে। ২০২৩ সালে ১৯০ জন ছাত্র/ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৭জন জিপিএ ৫ সহ ৯২% পাস করে। এ বছর ১৮০ জন ছাত্র/ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করবে।
কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ মোখলেছুর রহমান বলেন, কলেজটি ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে নদী ভাঙ্গন ও হত দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের অত্যন্ত সুনামের সহিত পাঠদান করে আসছে।

প্রতিষ্ঠানের অনেক সুনামও রয়েছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘ ২৪ বছরেও এমপিওভূক্ত না হওয়ায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতন জীবনযাপন করছি। ২০০১ সালে যোগদান করে এখন পর্যন্ত বিনা বেতনে চাকুরী করছি।

বাংলা বিষয়ের প্রভাষক জি এফ নুরুন নেছা শাহীন জানান, যোগদান করার পর থেকে বিনা বেতনে চাকুরী করছি। আমার চাকুরী প্রায় শেষ।

আগামী বছর অবসর গ্রহণ করব। এখন পর্যন্ত আমার চাকুরী এমপিওভূক্ত হয়নি। আমার ভাগ্যে আর এমপিওভুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও নাই।

অধ্যক্ষ ছামিউল আলম শামীম বলেন, ২০০১ সালে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করা হয়।

বর্তমানে কলেজটিত ১৮ জন শিক্ষক ও ৭ জন কর্মচারীসহ ২৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী বিনা বেতনে চাকরি করে পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তিনি আরোও বলেন, প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদের মৃত্যুর পর ২০১৯ সালে আমি এই কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছি।

আমি যোগদান করার পর থেকে বিভিন্নভাবে প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভূক্ত করার জন্য চেষ্ঠা করে যাচ্ছি।

তিনি সরকার বাহাদুরের কাছে সফল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্তির জন্য আহবান জানান।