স্টাফ রিপোর্টার

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার ৭ নং বামনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে ভিজিএফের চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার ভিজিএফের আওতায় সারা দেশের ন্যায় রায়পুর বামনী ইউনিয়নে ২ হাজার ২ শ জনকে ১০ কেজি করে ভিজিএফ চাল দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। যথারীতি ২ হাজার ২ শ জনের জন্য ২২ টন চাল পরিষদে আসে। চেয়ারম্যান প্রত্যেক সুবিধাভোগীদের ১০ কেজির স্থলে ৭/৮ কেজি চাল দিয়ে বিদায় দেয়। ৯ নং ওয়ার্ডের প্রায় ২০ জন সুবিধাভোগীর ভিজিএফ চালের স্লিপ চেয়ারম্যান ছিঁড়ে ফেলে এবং চাল না দিয়ে বিদায় করে। প্রতিবাদ করলে কয়েকজনকে মারধর করার অভিযোগও রয়েছে চেয়ারম্যান ও তার অনুগতদের বিরুদ্ধে।

৬ এপ্রিল শনিবার বামনী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে ওই চাল বিতরণ করা হয়।

চেয়ারম্যানের এসব অনিয়ম দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দ্বায়ের করেন অত্র
ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার জাহিদুল আলম সুমন।

অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে,গত ৬ এপ্রিল শনিবার সকাল অনুমান বেলা১১:০০ ঘটিকার সময় ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদ উপহার সরকারি বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাউল ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের বিতরণ কার্যক্রমের জন্য নির্ধারিত ছিল। ওসব ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত স্লিপধারীগন বামনী ইউনিয়ন পরিষদে চাউলের গেলে চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন চাউল আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে চাউল না দিয়ে সুবিধাভোগী অনেকের স্লিপ ছিড়ে ফেলে। যাদের কে দিয়েছেন তাদের বরাদ্দকৃত চাউল ১০ (দশ) কেজির স্থলে ৭-৮ কেজি দেওয়ায় জনগন প্রতিবাদ করিলে চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন জনগন কে উদ্দেশ্য করে গাল-মন্দ ও গায়ে হাত তুলে এবং চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউনিয়নের ০২ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মাহমুদুল হাসান জনগন কে লাথি মারে এবং লাঠি দ্বারা বেদড়ক মারধর করে। যদিও উল্লেখিত তারিখে রায়পুর উপজেলা ০৭ নং বামনী ইউপির ০২ নং ওয়ার্ডের ভিজিএফের চাউল বিতরণের কার্যক্রম ছিলনা। এতে করে ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ২০ জন সুবিধাভোগী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের চাউল থেকে বঞ্চিত হোন।
উক্ত ঘটনার বিভিন্ন ভিডিও চিত্র ইতি পূর্বে গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়।

৯নং ওয়ার্ড মেম্বার জাহিদুল আলম সুমন বলেন, চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন সরকারি বরাদ্দকৃত ভিজিএফের চাউল ওজনে কম দিয়া এবং অনেক কে না দিয়া বিপুল পরিমান সরকারি চাউল আত্মসাৎ করে। এ ব্যাপারে আমি রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করি। মাননীয়মন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়, মাননীয় সচিব, মাননীয় জেলা প্রশাসক, লক্ষ্মীপুর, প্রেসক্লাব, রায়পুর প্রেস ক্লাবের কাছে অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করি।

এ ব্যাপারে ৯ নং ওয়ার্ডের ভুক্তভোগী রাবেয়া, আশা, সামু, সুন্দরী, আমেনাসহ আরো অনেকেই বলেন, চেয়ারম্যান আমাদেরকে কার্ডের চাল না দিয়ে কার্ড ছিঁড়ে ফেলে।

অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন বলেন, কিছু লোক কার্ড ছাড়া চাল নিতে আসলে তাদের সাথে আমার হট্টগোল হয়।

এ ব্যাপারে রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইমরান খান বলেন, অভিযোগ হাতে পেলে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।